শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আরও এক মামলায় আসামি ৩৪২ জন, গ্রেপ্তার ১


BANGLAR NARAYANGANJ | Banglar Narayanganj প্রকাশিত: Nov 6, 2026 শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আরও এক মামলায় আসামি ৩৪২ জন, গ্রেপ্তার ১
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে। নতুন মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করেছে পুলিশ। এ মামলায় শিবু (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন।

এজাহারে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের একাংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন দেন। পরে তাঁদের একাংশ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধ করতে এগোলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

এজাহারে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ২০৩টি লং শেল, ৪৪টি শর্ট শেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, দুটি কালার স্মোক গ্রেনেড ও পাঁচটি টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এরপর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন ও অর্থায়ন এবং পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। মামলায় নাম থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ ও শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও ওয়াসিম, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম।

এ ছাড়া এজাহারে মিরু হোসেন ওরফে ল্যাংড়া মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, ইব্রাহীম চেঙ্গীস ওরফে চেঙ্গীস খান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, নাজিম উদ্দীন সরদার, আবু শরিফুল হক, শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, আল আমিন কবির, জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব ও রাজ্জাকের নাম রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় একই থানার এসআই মিলন ফকির বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। বুধবার ভোরে রেকর্ড হওয়া ওই মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।